Tuesday, July 4, 2017

ধেড়ে খোকা

ধেড়ে খোকা
শ্রেয়স্কর সাহা 

তোমার খোকা হইল বড় -
মস্ত শাহাজাদা ।
ভুল করলেও বকে না তাকে
বাপ ঠাকুরদাদা ।

নিয়ম করে ভাগ করে খায়
ঘুষ অথবা খাজনা ।
দলিত-দলাই পীর-পিড়ীতের
খাবার থালায় যোজনা !

প্রদেশ জেলা ভাঙ্গার পরে
দেশ ভাঙ্গার তাগিদ ;
জাত-জাতির সমুখ-সমরে
মন্দির - মসজিদ ।

বিংশ শতক, ছুটছে ঘোড়া -
তোমার খোকা সাওয়ার ।
বিক্রি হলো বীরষা-সিধুর
ভিটে-মাটি-অধিকার ।

Saturday, July 1, 2017

পরিচয়

পরিচিতি বা identity - জন্মের পর থেকে আমৃত্যু আমাদের যত সত্তার বিকাশ হয় তত আমাদের নতুন পরিচিতি হয় আর তা পরস্পর নিরপেক্ষ। এই পরিচিতি সব প্রাপ্ত। আমি হিন্দু বা মুসলিম, পুরুষ বা নারী, বাঙালি বা অবাঙালি, ভারতীয় বা বিদেশী, স্বামী বা স্ত্রী - এসব প্রদত্ত পরিচিতির থেকে কি আলাদা আমার পরম পরিচিতি (absolute identity)? আমার কোন পরিচিতি প্রাধান্য পাবে, তা কার বা কিসের উপর নির্ভর করবে ? আমার পরিচিতি সঙ্কট (identity crisis) যত তীব্র হপে তত কমবে আমাদের পারস্পরিকতা তত বাড়বে আমার কোনো একটি পরিচিতি কে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবনতা ; তত বেশি করে আমি জাহির করব - আমি হিন্দু বাঃ মুসলিম, তত বেশি করে প্রকাশ করব আমার বাঙ্গালিয়ানা বা অবাঙ্গালিয়ানা, তত বেশি আমি জাতীয়তাবাদী হব, তত বেশি আমি চাইব আমার পুরুষত্বের অথবা নারীত্বের অধিকার। কিন্তু আমার পরম পরিচিতি যে কোনো সত্তা নিরপেক্ষ। 

পরিচয় 
শ্রেয়স্কর সাহা 

ধরুন, আপনি কোনো বাড়িতে গিয়ে 
দরজায় কড়া নাড়লেন আর 
ওপার থেকে প্রশ্ন ভেসে আসল - 
'কে?' 

আপনি বলবেন, 'আমি'।
কিন্তু কে আপনি ?
আপনার গলার স্বর হয়ত 
আপনার প্রদত্ত পরিচয় বহন করে ।
কিন্তু আপনার 'আমি' কি আপনার 
পরম সত্তার পরিচয় বহন করে ?

যদি করে তাহলে,  

আপনি কারো পিতা, মাতা, ভাই, বোন, বন্ধু 
লেখক, কবি, শিক্ষিত, অশিক্ষিত
কিছুই হতে পারেন না ।
কারন আপনার পরম সত্তা পরনির্ভরশীল না ।

আর যদি না করে 

তাহলে, আপনার কোনো পরিচয় আপনার নয় ।
হয়ত আপনি মানবেন অথবা মানবেন না-
কিন্তু কোন পরিচয়ে আপনার 'মানা' বা 'না মানা'
বৈধতা পাবে? আর কার কাছে?

ভাবছেন, আমি কে?

যে কোনো পরিচয়ে আপনার 'আমি'র কোনো সত্তা -   
আমি । 

Sunday, June 25, 2017

রথযাত্রা

আজ রথ যাত্রা । আমার শৈশব ও কিশোর বয়সের রথযাত্রার অনেক স্মৃতি আজ মনের মধ্যে ভিড় করেছে । দুর্গাপুরের সবথেকে বড় রথযাত্রার মেলা বসে চিত্রালয় ময়দানে । এছাড়া আমি যেখানে থাকতাম, MAMC Township সংলগ্ন এলাকায় জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গনে একটা ছোটো-খাটো মেলা বসত। এই দিন্টা আসলেই সকাল থেকে একটা আলাদা উদ্দীপনা মনের ভেতর থাকত - কখন মেলা যাব । খুব ছোটো বেলায়, যখন ফুলঝোর গ্রামে থাকতাম, তখন আমার পাশের পাড়ার জেঠিমা , দিদিদের সাথে জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার দিন মেলা দেখতে জেতাম । দিদিদের মধ্যে থাকত লাভলি দি, মনি দি, শম্পা দি । মা আমার হাতে টাকা গুঁজে দিলেও ও টাকা খরচ হত না । মেলা থেকে কখনো কাঠের রথ, কখনো বা স্প্রিং দেওয়া মাথা ওয়ালা বুড়ো কিনে আনতাম । এছাড়া পাপড় ভাজা,  জিলিপি তো বরাদ্দ থাকত যা ওই মেলাতেই খেয়ে ফেলতাম । চিত্রালয় মেলা অনেকদিন ধরে থাকত । বাবার স্কুটারে চেপে, আমি আর দাদা চিত্রালয় মেলাতেও যেতাম । বাবা ঐ মেলার বুকস্টল থেকে প্রতিবার কিছু না কিছু বই কিনে দতেন । কখনো M.K Sen এর grammar, কখনো magic colour book - জল দিয়ে তুলির টান দিলেই রঙ হয়ে যেত, আবার কখনো বা অঙ্ক নিয়ে মজা । 

চিত্রালয় মেলায় প্রতিবার বাঊল গানের আসর বসত । একবার বাংলাদেশ থেকে ছোটো মামা বেড়াতে এসেছিলেন । আমি আর দাদা ওনার সাথে মেলা গিয়ে তিনজন দাঁড়িয়ে বাঊল গান শুনছি, তো কোনো এক সময় আমি একটু সামনে এগিয়ে গেছিলাম আর মামাদের সঙ্গ ছাড়া হয়ে হারিয়ে গেছিলাম । অনেক খোজাখূজির পর ওনারা আমাকে মেলা অফিসে পেয়েছিলেন । আমাকে একা ঘোরাঘুরি করতে দেখে এক ভদ্রলোক মেলা অফিসে জমা করেছিলেন। 

একটু বড় হতে বন্ধুদের সাথে মেলা যেতাম । দীপক (সাহা), নিশীথ (গাঙ্গুলি), অমিত (জাসু), শিবু (শিবাশীষ পাল) এরা আমার সঙ্গী ছিল । MAMC বাস এ প্রচুর ভিড় হত । সেটার সুযোগ নিয়ে বাসের ভাড়া বাঁচানো তখন লক্ষ্য থাকত। আবার মোগলাই পরোটার দোকানে তিন জনের দাম দিয়ে ছয়জনও খেয়েছি কখনো । কিছু অপরাধবোধ থাকলেও মজা ছিল ঢের বেশি । 

তখন ফার্স্ট ইয়ার এ পড়ি । আমি আর শিবু আমার সিলভার প্লাস মোপেড নিয়ে মেলা থেকে ফিরছি । এমন সময় clutch এর তার ছিঁড়ে যায় । তারপর অগত্যা ওই অবস্থাতেই কোনোমতে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরা । 

২০০৬ সালের পর রথের মেলায় আর যাওয়া হয়নি । হয়ত এখনো ঐ ভাবেই মেলা বসে, ঐ দোকানগুলোই আছে অথবা অন্য কোনো দোকান ।আমাদের জায়গা নিয়েছে অন্য কোনো ছেলের দল । এইভাবেই সময় এগিয়ে যায়, রেখে যায় স্মৃতি ।